গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে অবাধে চলছে চোরাচালান। প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে নামছে চিনি, মাদক, অস্ত্র, কসমেটিক্স, কিটসহ শত কোটি টাকার চোরচালান। প্রতিদিন সীমান্তে কোটি কোটি টাকার চোরাচালানের মালামাল বিজিবি জব্দ করলেও ধরাছোঁয়ারাই বাইরে থাকেন চোরকারাবারীরা। সীমান্তে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও গোয়াইনঘাটের নকশিয়া লামাপুঞ্জি ও প্রতাপুরপুঞ্জি দিয়ে বিজিবি’র লাইনম্যান কামাল মেম্বার, এলবিস লামিন ও ওয়েলকামের নেতৃত্বে অবাধে নামছে চোরাচালানের মালামাল। কামাল মেম্বার, এলবিস লামিন ও ওয়েলকাম বিজিবি’র লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। তাছাড়া এই তিন জনের সিন্ডিকের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সীমান্তের মানুষ। তাদের চাঁদা না দিলে হামলা ও মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। এই তিন জন ছিলেন এক সময়ের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছের মানুষ।
জানা যায়, ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সদস্য ও প্রজন্ম দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে মো. কামাল উদ্দিন নকশিয়া লামাপুঞ্জি ও প্রতাপুর পুঞ্জির দুই হেডম্যানের এলবিস লামিন ও ওয়েলকামকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র গড়ে তুলেছেন। ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন বিজির লাইনম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তাছাড়া নকশিয়া লামাপুঞ্জি ও প্রতাপুর পুঞ্জিতে এলবিস লামিন ও ওয়েলকাম হেডম্যান থাকার সুবাদে এখানে তাদের ইশারা ছাড়া বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ। এই সুযোগে বিজিবির’ কতিপয় কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে কামাল মেম্বার এলবিস লামিন ও ওয়েলকাম তাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুঞ্জির ভেতর প্রতিরাতে তাদের লোক দিয়ে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে আসছেন। এতে তারা পুলিশ ও বিজিবি’র কথা বলে চাঁদা তুলেন। তবে কামলা, এলবিস ও ওয়েলকাম সিন্ডিকেটের বাইরের কোনও লোকজন পুঞ্জির ভেতর ঢুকতে পারেন না। প্রতিদিন এই সিন্ডিকেট চক্র বিজিবি ও পুলিশের না ভাঙিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে নকশিয়া লামাপুঞ্জি ও প্রতাপুর পুঞ্জির দুই হেডম্যানের এলবিস লামিন ও ওয়েলকাম এক সময়ের আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছের লোক ছিলেন। মন্ত্রীর কাছের লোক পরিচয় দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে তারা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন তা এখনো আছেন প্রকেশ্যে এবং বহাল তবিয়তে তাছাড়া ইউপি সদস্য কামাল প্রজন্ম দলের পরিচয়ে সেল্টার নিয়ে দুই পুঞ্জির ভেতরে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন চোরাচালান।
এ ব্যাপারে নকশিয়া পুঞ্জির হেডম্যান এলবিস লামিন জানান, আমি চোরাচালানের সাথে জড়িত নই। কামাল মেম্বার ও ওয়েলকামের সাথে যোগাযোগ করেন।
এ ব্যাপারে নকশিয়া পুঞ্জির হেডম্যান এলবিস লামিন জানান, আমি চোরাচালানের সাথে জড়িত নই। কামাল মেম্বার ও ওয়েলকামের সাথে যোগাযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও প্রজন্ম দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমি এই সকল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না বর্তমানেও নেই। আমি ইউপি সদস্যের পাশাপশি চাকুরি করি সংগ্রামর পুঞ্জির নেরলা জমিদারের কেয়ারটেকার হিসেবে। তাছাড়া এলবিস ও হেডম্যান দুই পুঞ্জির জমিদার। তাদের সাথে প্রতিবেশি হিসেবে আমার সম্পর্ক আছে।
Leave a Reply